আজ
|| ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
বর্তমান প্রজন্ম আর ব্যর্থতা দেখতে প্রস্তুত নয়: জামায়াতের আমির
প্রকাশের তারিখঃ ২৫ অক্টোবর, ২০২৪
জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হবে ২৪–এর গণবিপ্লব। এই গণবিপ্লবের চেতনাকে পাস কাটিয়ে আমাদের দল এবং কোনো দল যেন ভিন্ন পথে হাঁটার চিন্তা না করে। যারাই হাঁটবে, তাদেরই স্বৈরাচারের রাস্তা ধরতে হবে। বর্তমান প্রজন্ম আর এই ব্যর্থতা দেখতে প্রস্তুত নয়। গাজীপুর মহানগরীর নগপাড়া এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আজ শুক্রবার সকালে গাজীপুর জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত দলের রোকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি আমার দলকে সতর্ক করছি এবং সব রাজনৈতিক দলকেও সতর্ক করছি। জনগণের চেতনার বিপক্ষে আমরা যেন কেউ না দাঁড়াই। আমাদের অবশ্যই জনগণের পক্ষে শক্ত করে দাঁড়াতে হবে। জনগণের ন্যায্য দাবি যদি থাকে, সে দাবিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা বা দুঃসাহস আমরা যেন কেউ না দেখাই। কিন্তু হ্যাঁ, যদি জনগণের মধ্য থেকে কোনো একটি বিশেষ মহল জাতিকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য, প্রতারণা করার জন্য, কোনো কিছু নিয়ে আসে, সে ক্ষেত্রেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে তাদের প্রতিহত করার জন্য।’
অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছে, তারা আমাদের কলিজার টুকরা। তাদের দাবি ছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস, আমরা সুবিচার চাই। সুবিচার যে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেখানে ডাকাত এবং চোরের কোনো জায়গা নেই। সেখানে সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচারের কোনো সুযোগ নেই। যেখানে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, সেখানে ঘুষের রমরমা বাণিজ্য চলবে না।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আমরা এমন বিচিত্র সংসদ ও সরকার পেয়েছিলাম, সেই সংসদ এবং সরকার জনগণের জন্য ছিল না। সেখানে ব্যক্তিবন্দনায় নেচে–গেয়ে জনগণের টাকা নষ্ট করা হতো। এক ব্যক্তির ইশারায় সবকিছু উঠত এবং বসত। ইতিহাসে এমন দুর্ধর্ষ শাসক যারা ছিল, স্বৈরশাসক যারা ছিল, তারা বলত আমি হচ্ছি সবচেয়ে বড় রব।’
জাতীয় সংকটে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বলেছি, দল এবং ধর্ম যার যার, দেশ আমাদের সবার। দেশের মৌলিক স্বার্থে দলগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের বিভাজন এই জাতি কামনা করে না। সংকট এসেছে, সংকট আছে, সংকট থাকবে। সব জাতীয় সংকট ঐক্যবদ্ধভাবে এ জাতি মোকাবিলা করবে।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘একটা নাগরিক সে যে পর্যায়ের থাকুক না কেন, যে দলের হোক যে ধর্মের হোক, সে আদালতে গেলে ন্যায়বিচার পাবে। ওখানে ন্যায়বিচার বঞ্চিত হবে না। কারও টেলিফোনের কারণে একজন নাগরিকের জীবনে অত্যাচারের স্টিমরোলার আসবে না। মানুষকে তারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না। বিচারপ্রার্থী ন্যায়বিচার পেলে এ দুয়ার সে দুয়ারে ঘুরবে না। এমন একটি রাষ্ট্র আমরা গড়তে চাই, দেখতে চাই। সেই কল্যাণ সেই মানবিক রাষ্ট্রের অভিযাত্রী হিসেবে আমরা দেশবাসীর সহযোগিতা চাই, দোয়া চাই এবং পাশে চাই।’
Copyright © 2026 Anti Corruption news agency. All rights reserved.