• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন

পূজামণ্ডপে সঙ্গীত বিতর্ক :  গ্রেফতারকৃত দুজন কারাগারে, ব্যান্ডের আমন্ত্রণকারীকে খুঁজছে পুলিশ

Reporter Name / ১৪৪ Time View
Update : শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪
পূজামণ্ডপে-সঙ্গীত-বিতর্ক-গ্রেফতারকৃত-দুজন-কারাগারে-ব্যান্ডের-আমন্ত্রণকারীকে-খুঁজছে-পুলিশ

চট্টগ্রাম নগরীর উপাসনালয়ের মঞ্চে গান পরিবেশন করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেফতার দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির সদস্য শহিদুল করিম ও নুরুল ইসলাম। একই সঙ্গে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। শনিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন।

এদিকে গান পরিবেশনের আমন্ত্রণ জানানো পূজা কমিটির নেতা সজল দত্তকে (ঘটনার পর বহিষ্কার করা হয়েছে) তাকে খুঁজছে পুলিশ। তাঁকে পাওয়া গেলে জানা যাবে কেন তাঁকে পূজা মণ্ডপের মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কোতোয়ালি থানার ওসি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, সজল দত্ত স্বেচ্ছায় এটা করেছে নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল তা আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসবে।

গত শুক্রবার রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) এএএম হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

পূজামণ্ডপে সংগীত পরিবেশনে অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে: পুলিশ

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা রইছ উদ্দিন

এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির অর্থ সম্পাদক সুকান্ত বিকাশ মহাজন বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির ছয় সদস্য শহীদুল করিম, নুরুল ইসলাম, আবদুল্লাহ ইকবাল, মোঃ রনি, গোলাম মুস্তফা এবং মোঃ মামুন এবং চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্ত (ঘটনার পর বহিষ্কৃত) যারা গান গাইতে আমন্ত্রিত ছিলেন, আসামিও করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরীর রহমতগঞ্জের জেএম সেন হলে সজল ছাড়া ছয় আসামি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে গান করেন।

মামলায় বলা হয়, ঘটনার দিন চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির একদল শিল্পী অনুষ্ঠানে এসে দুটি গান পরিবেশন করেন। একটি গানের ভাষা বেছে নেওয়ায় সনাতন ধর্মের সদস্যদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে মনে হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা ভেবে তাৎক্ষণিকভাবে গানটি বন্ধ করেনি পূজা উদ্যাপন কমিটি।

এ ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ঘটনার দিন ও রাতে পূজামণ্ডপে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা