• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিকতার আড়ালে চাদাবাজি !

সংবাদ প্রতিনিধি, গাইবান্ধা / ৩৮৩ Time View
Update : বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৪
সাংবাদিকতার আড়ালে চাদাবাজি !

এলাকাবাসী চিনেন এক ভিন্ন পরিচয়ে তাদের। একটি বেসরকারী টেলিভিশনের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি, নাম খালেদ হোসেন। সাথে রয়েছেন জাভেদ হোসেন নামে আরেকজন । স্থানীয়রা বলছেন, নামসর্বস্ব প্রেসক্লাব তৈরি করে জেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রেখেছে এরা। এছাড়াও তারা মাদকদ্রব্য বিক্রী এবং চাঁদাবাজির সিণ্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শহরের কাচারী বাজারে অবস্থিত গাইবান্ধা প্রেসক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকদের কেন্দ্র। স্থানীয় অনেক প্রবীণ ও মেধাবী সাংবাদিকরা ক্লাবটিতে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। সদস্য রয়েছেন প্রায় শতাধিক। স্যাটেলাইট টেলিভিশন, জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক পত্রিকার প্রতিনিধিরা এটির সদস্য। গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে নানা বিতর্কি ত কর্মকাণ্ড জড়িতদের সদস্য না করায়  তারা কয়েকজন মিলে জেলায় আরো একটি প্রেস ক্লাব গঠন করেন। এবং সেই প্রেসক্লাবের সাইন বোর্ড ব্যবহার করে শুরু করে দেয় বিতর্কিত সব কাজ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খালেদ হোসেন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের সময়ে দলটির গাইবান্ধা শহর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ে সুবিধা করতে না পারায় বেছে নেয়  গণমাধ্যমের সাইনবোর্ড । এক সময় বেসরকারী টেলিভিশনের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করে। তবে উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতার আড়ালে অর্থ উপার্জন করা, যেভাবেই হোক। পেশার নাম ভাঙিয়ে ইটভাটা-বালু ব্যবসায়ীদের নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবী করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে টেলিভিশনসহ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে তুলে এনে নির্যাতনে একাধিক গুরুত্বর অভিযোগও রয়েছে। রবিন সেন নামের একজন এই টিমের সদস্য , যিনি নির্যাতন বাহিনীর প্রধান বলে জানা যায়। স্থানীয় সুত্র বলছে, রবিন সেন একজন মাদকসেবী।

মিজানুর রহমান সবুজ নামে এক ভুক্তভোগি মানসিক যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে জেলার সংবাদকর্মিদের দারস্থ হন। সবুজ বলেন, কোন প্রকার তথ্য ছাড়াই আমাকে হয়রানী করতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করছে। বলেন, ‘ আমি প্রেস কাউন্সিলের শরণাপন্ন হবো।’

গাইবান্ধার আলোচিত টুকু হত্যা মামলার আসামি এই কথিত সাংবাদিক খালিদ হোসেন ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করেছেন। গাইবান্ধা সদর থানা সুত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে আরো দুইটি নিয়মিত মামলার রয়েছে। একটি মামলায় তিনি ৩১ নাম্বার , অন্যটিতে ৬১ নাম্বার আসামি।

খালিদের সহযোগী জাভেদ হোসেনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সময় তিনি সাইকেল মেকানিকের কাজ করতেন।পাশাপাশি ভাংগারির ব্যবসার আড়ালেই মাদক সেবন এবং ব্যবসা ছিলো জীবিকার মাধ্যম। এই মাদকের ব্যবসার সাথে মনির নামের একজন পুলিশ সদস্য জড়িত ছিল এবং পরবর্তিতে সেই পুলিশ সদস্য কয়েক হাজার পিস ইয়াবা সহ ধরা পড়লেও জাভেদ থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায় জাভেদের ছোট ভাই বাবু ঢাকায় একজন অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার আসামী।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা