কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের সম্মেলন কক্ষ থেকে ১৫ জন ইউপি সদস্যকে আটক করা হয়েছে; যাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিরোধীতাসহ বিভিন্ন সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। শুক্রবার গভীর রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার আবাসিক হোটেল ‘ইউনি রিসোর্ট’ থেকে তাদের আটক করা হয় বলে সদর থানার ওসি ফয়জুল আজীম নোমান জানান।
গ্রেপ্তাররা সবাই কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বলে পুলিশ জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
তাদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহে যান স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কর্মীরা। তখন ‘পুলিশের উপস্থিতিতে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল তরুণ-তরুণী সাংবাদিকদের খবর সংগ্রহে বাধা দেন এবং ‘মারধর’ ও ‘ক্যামেরা ভাঙচুরের’ চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় প্রতিনিধিরা বিষয়টি অস্বীকার করে এক ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেছেন।
ওসি বলেন, “শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা সরকারবিরোধী ‘গোপন বৈঠক’ করার খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশের একটি দল হোটেলটি ঘিরে ফেললে বেশ কয়েকজন কৌশলে পালিয়ে যান। পরে সেখানে সম্মেলন কক্ষে অবস্থান করা ১৮ জন ইউপি সদস্যকে আটক করা হয়।”
“আটক ইউপি সদস্যরা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটির নেতা। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিরোধীতাসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।” পরে রাতেই আটকদের পুলিশ ভ্যানে করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয় বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউনি রিসোর্টের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থা-বাইসস কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে ‘রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় উন্নয়নে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তার সভাপতিত্বে এতে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার অন্তত ৫ শতাধিক ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান অংশ নেন।
তিনি বলেন, “সন্ধ্যায় সভা শেষে অতিথিসহ অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি চলে গেলেও কক্সবাজার জেলার কিছু ইউপি সদস্য অবস্থান করছিলেন ওই রিসোর্টে। সন্ধ্যার দিকে পুলিশ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিছু কর্মী আকস্মিক হোটেলটি ঘেরাও করে তাদের আটকে দেন। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় পর ১৮ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।”
তবে কী কারণে পুলিশ তাদের আটক করেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি ইউপি চেয়ারম্যান।
ওসি ফয়জুল বলেন, “রাতে আটক ইউপি সদস্যদের থানার আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ পাওয়া তাদের ১৫ জনকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার এবং বাকি তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শনিবার বিকালে গ্রেপ্তারদের কক্সবাজার আদালতে নেওয়া হয়েছে।”